Beta Ver. 0.04
Tuesday, October 27, 2026
Homeসহযোগী সংবাদমাধ্যমবণিক বার্তাবিশ্বের প্রাচীনতম ডেজার্ট ‘আশুর’

বিশ্বের প্রাচীনতম ডেজার্ট ‘আশুর’

ছোট থেকে বড়, কমবেশি সবারই পছন্দের ডেজার্ট কাস্টার্ড। দাওয়াতে কিংবা বিকালের নাস্তায় কাস্টার্ড বেশ জনপ্রিয় ডেজার্ট তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই পুডিংয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বিশ্বের প্রাচীনতম ডেজার্টের ইতিহাস, এ কথা হয়তো জানেন না অনেকেই। বিশ্বের প্রাচীনতম একটি ডেজার্ট ‘আশুর’, বর্তমান কাস্টার্ডেরই প্রাচীন রূপ।যদিও কাস্টার্ডে ছোলা ও মটরশুঁটি ব্যবহার করা হয় না, তবে এগুলো কিন্তু বিশ্বের প্রাচীনতম ডেজার্ট আশুরের মূল উপাদান। কারো কারো মতে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু ডেজার্টগুলোর মধ্যে একটি।নানা ধরনের উপকরণে তৈরি করা এ খাবারটি খেতে হালকা মিষ্টি, বেশ ভারি এবং কিছুটা ঝাল স্বাদের সঙ্গে ফলের মিষ্টতাও এতে থাকে।এক কথায় তাদের রান্নাঘরে যা কিছু অবশিষ্ট থাকত তা একত্রিত করে তৈরি করা হতো এই ডেজার্ট।

বিশ্বের প্রাচীনতম রেসিপির এ ডেজার্ট এখনো তৈরি হয় ইস্তাম্বুল শহরের কিছু দোকানে। বিবিসির সংবাদদাতা পল বেঞ্জামিন অস্টারলান্ড একবার ইস্তাম্বুলের কুরতুলুস পাড়ায় ‘গোরেমে’ নামে এক পুরনো মিষ্টির দোকানে প্রাচীন এক রেসিপির সন্ধানে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি পান আশুরের অস্তিত্ব ও ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে এই ডেজার্টের সম্পৃক্ততাও।ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে, আশুরকে প্রায়শই ‘নূহের পুডিং’ বলা হয়। ইস্তাম্বুলে জনশ্রুতি রয়েছে, মহাবন্যায় বেঁচে ফেরার পরে এবং আজকের তুরস্কের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের প্রান্তে আরারাত পর্বতে ভেসে আসার পর নবীর পরিবার বিভিন্ন উদযাপনে বিশেষ খাবার হিসাবে ‘আশুর’ প্রস্তুত করত ।এছাড়া আশুর সম্পর্কে তুরস্কের খাদ্য বিষয়ক সাংবাদিক সেমরে টোরুন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’ এবং ‘জিকিউ’-এর নিবন্ধে কিছু তথ্যও দিয়েছেন। তার মতে, বিশ্বের প্রাচীনতম ডেজার্ট হিসেবে এর যেমন আলাদা পরিচয় আছে, এর বাইরেও আনাতোলিয়া বা বর্তমান তুরস্ক জুড়ে আশুরের গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।আরবি ভাষায় আশুর মানে ‘১০’। আশুরা বলতে ইসলামিক হিজরি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মহররমের ১০ম দিনকে বোঝায়।ওই সপ্তাহে তুরস্কের বাড়িতে বাড়িতে মিষ্টি রান্না করা হয় এবং বন্ধুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। যা ভালোবাসা ও প্রাচুর্য প্রসারের প্রতীক।ইস্তাম্বুলের বাহসেহির ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্বের অধ্যাপক সুনা ক্যাগাপ্টে নিউ লাইনস ম্যাগাজিনে লেখা এক প্রবন্ধে বর্ণনা করেছেন যে মরুভূমি অঞ্চলের এই খাবার ইউরোপের দেশ গ্রীস এবং আর্মেনিয়ার রসুইঘর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।এ কারণেই মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব ইউরোপ জুড়ে আশুরের বৈচিত্র্যময় রেসিপি পাওয়া যায়।

[Disclaimer:You may visit the news source-bonikbarta.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর