Beta Ver. 0.04
Monday, June 1, 2026
Homeজাতীয়নারী ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে

নারী ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে

এ মুহূর্তে বাংলাদেশের নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো তাদের সামাজিক অবস্থান। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী, অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি।

এ কারণে আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অবস্থান শক্ত করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। কিন্তু উদ্যোগটি এখনো তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারেনি। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে আরো কিছু সময় লাগবে। কারণ নারীদের মধ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুসজ্জিত করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়ে গেছে। এ সময়ে নারীদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল না। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেমন ভিন্ন ভিন্ন জেলা পর্যায়ে নারী সংস্থা তৈরি করা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেগুলো উন্নত করা এবং তাদের কাজ করতে দেয়া। সর্বোপরি ধীরে ধীরে সমাজের নানা পর্যায়ে নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। গ্রাম পুলিশ ব্যবস্থা সর্বপ্রথম জিয়াউর রহমানের শাসনামলে চালু হয়। সে সময়ই প্রথম নারী গ্রাম পুলিশ নিযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি সবসময় নারীর ক্ষমতায়নের বিশ্বাসী। দলটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সে চর্চাই করে আসছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার আমলে শিশু ও নারীদের জীবনমান উন্নয়নে নানা কাজ করছেন। এর মধ্যে ছিল শিশুশিক্ষার উন্নয়ন। শিশুদের অন্য কাজে না লাগিয়ে প্রাইমারি স্কুলে পাঠানোর বিষয়ে অভিভাবকদের আগ্রহী করে তোলার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। সেজন্য তিনি শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নারীরা যেন সত্যিকার অর্থে সুসজ্জিত থাকে, শিক্ষিত হয়; সেজন্য তিনি বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আগে পরিবারগুলো নারীর পড়ালেখার পেছনে যতটুকু বিনিয়োগ করত, তার চেয়ে অনেক বেশি বিনিয়োগ করত ছেলেদের পড়ালেখার পেছনে। নারীদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেয়ার একটি প্রবণতা ছিল। সেজন্য তার আমলে মেয়েদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার পাশাপাশি তাদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূ্ল্যে বই বিতরণেরও ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে এ ধরনের উন্নয়ন বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই হয়েছে। সে সময় মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে বন্ধ করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল। আর পরিবার পরিকল্পনা বা দুটি সন্তান গ্রহণকে উৎসাহিত করার বিষয়টি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেই শুরু হয়। এটিকে সে সময় প্ল্যানড প্যারেন্টহুড বলা হতো। এ প্ল্যানড প্যারেন্টহুডের মাধ্যমে মায়ের ওপর থেকে মনোদৈহিক চাপ কমে যায়। পাশাপাশি আর্থিক চাপও কমে যায়। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষার স্তর উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়। চাকরির ক্ষেত্রে আগে সেনাবাহিনী বা পুলিশে নারীর অংশগ্রহণ তেমন দেখা যেত না। এসব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বিএনপি সরকারের আমলেই বেড়েছে।

একটি বিষয় বোঝা জরুরি যে বিএনপি সবসময় নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। নারী নেতৃত্ব উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ হলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হোন। সে সময় সংসদে অনেকে অনেক কথা বলেছে। কেউ কেউ বলেছে বিএনপি ১০টি সিট পাবে। কিন্তু দেশের মানুষের ভালোবাসা নিয়ে তিনি দলের প্রধান হয়েছেন এবং ’৯১ সালে সংসদ নেতা হয়েছেন। দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। এটি নারীর ক্ষমতায়নের এক অনন্য উদাহরণ। তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম প্রধানমন্ত্রী। তিনি সে সময় তার দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করেছেন। বিএনপির শাসনামলে নারীর ক্ষমতায়নের অনেক উদ্যোগ চিহ্নিত করা যায়।

বর্তমান সরকারও যে বিষয়টিকে এগিয়ে নিচ্ছে তার প্রথম উদাহরণ ফ্যামিলি কার্ড। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান। জনগণ তার পরিকল্পনার ওপর আস্থা রেখে আমাদের নির্বাচিত করার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেটিকে সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণের পর ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমেই তিনি তার কর্মসূচি শুরু করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তার যে প্রতিশ্রুতি, সেটি বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট থাকব। কর্মক্ষেত্রে নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একজন নারী নিজ পরিবারে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরির পাশাপাশি মূল কেন্দ্রে যাতে চলে আসতে পারে সেজন্য আমরা সচেষ্ট থাকব। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পড়াশোনাসহ অন্য সব দিকে অগ্রসর হবে। নারীরা ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে।

ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, এমপি: মন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

[Disclaimer: You may visit the news source-bonikbarta.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর