Beta Ver. 0.04
Tuesday, June 2, 2026
Homeপ্রধান শিরোনামরোজার আগে চালের দাম বাড়ার আভাস, মুরগি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামেই

রোজার আগে চালের দাম বাড়ার আভাস, মুরগি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামেই

রমজান মাস যত ঘনিয়ে আসছে ততই নিম্ন এবং মধ্যবিত্তদের কপালে পড়তে শুরু করেছে চিন্তার ভাজ। আমন ধানের ভরা মৌসুম চললেও এবং চাল আমদানি হলেও কমছে না চালের দাম।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পলাশীর বুয়েট বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল মোটা চালের (গুটি স্বর্ণা) কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকায় ও আটাশ চালের কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির মিনিকেট চালও বেশি দামে ৮৫ থেকে ৮৭ টাকায় বিক্রি হয়। ভরা মৌসুমেও চিনিগুঁড়া চাল বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। 

এ বিষয়ে চাল বিক্রেতা বিপ্লব হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন মিলমালিকরা। বাজার সিন্ডিকেটের জন্য চাল আমদানি হলেও দাম কমছে না। সামনে রোজার মাসে দাম বাড়ার সম্ভাবনা অনেক।’

তবে আগের মতোই চিনির দাম ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি, চিকন মসুর ডাল ১৬৫ টাকা, ছোলা ১০০ থেকে ১১০, দুই কেজির আটার প্যাকেট ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’

গত সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির দাম, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১৫ টাকা ও সোনালি মুরগিতে ২০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার পেছনে মুরগির কম সরবরাহ বলে দাবি করছেন মুরগির ব্যবসায়ীরা। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় ২০০ টাকা কেজি দামেও বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি সোনালি মুরগির কেজিতে ২০-৪০ টাকা বেড়ে ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। 

ওই বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. মনির বলেন, ‘মুরগির সরবরাহ কম। খামার থেকে বাড়তি দামে কিনে আনতে হয়েছে। তার ওপর বাজারে মুরগির চাহিদা বেশি। সব মিলিয়ে এর প্রভাব পড়েছে সব বাজারে।’

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সেলিম বলেন, ‘ভেবেছি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকার মধ্যে ব্রয়লার মুরগি কিনতে পারব। কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে চিন্তায় পড়ে গেছি। যেভাবে হুট করে একটি পণ্যের দাম বেড়ে যায়, সেভাবে তো আমাদের আয় বাড়ে না। প্রতিবছর রমজান এলেই চাল- মুরগিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখছি না।’ 

অন্যদিকে গরু, খাসি ও মাছের দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। চাষের পাঙাশ, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প মাছও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৪০ থেকে ২৬০ ও সিলভার কার্প ২৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। নদী, খাল, বিলের মাছও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা যায়। চিংড়ি, ট্যাংরা, বাচা, কাজলি মাছও ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার কমে মেলে না। এদিকে, গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করা হয়। 

শীতের সবজির সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। তারপরও কমেনি অধিকাংশ সবজির দাম। গতকালও বেগুনের কেজি বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। কাঁচামরিচ ১৪০ টাকায়, করলা, কচুর লতি, বরবটি, পটোল ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। বরবটি ও কচুরলতিও ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। লাউয়ের পিস ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ও ফুলকপির পিসও ৪০ থেকে ৫০, শিমের কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে টমেটোর দাম কমে ৬০ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছে। 

আগে বেশি দামে বিক্রি হলেও গতকাল মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। কিন্তু আমদানি করা পেঁয়াজ ৮০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আগের মতোই আদার কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, রসুন ১১০ থেকে ১৮০, নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। 

[Disclaimer: You may visit the news source-www.khaborerkagoj.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর