Beta Ver. 0.04
Tuesday, June 2, 2026
Homeস্টিকি সংবাদসাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে

সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে

সাতক্ষীরা জেলার একটি প্রসিদ্ধ ফলের নাম কুল। এ জেলার নামকরণে গাণিতিকভাবে যে সাতটি জিনিস প্রসিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম ফল হলো কুল। সাতক্ষীরা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির কুল। 

সাতক্ষীরার বেলে দো-আঁশ মাটি ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ফলে দিন দিন সাতক্ষীরায় কুলের আবাদ বাড়ছে। খেতে সুস্বাদু হওয়ায় সাতক্ষীরার কুলের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। তবে সাতক্ষীরার আমের পাশাপাশি সুস্বাধু এই কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করে কৃষি বিভাগ। 

সাতক্ষীরায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় কুল চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরা কুল চাষের সম্ভাবনাময় জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের চাষ হয়েছে, যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন কুল উৎপাদন হবে এবং এর বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সাতক্ষীরার মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে সাতক্ষীরার কৃষকদের। ভালো ফলন, কম খরচ আর লাভ বেশি হওয়ায় এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ শুরু করেন চাষিরা। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় সাতক্ষীরার বেশির ভাগ অনাবাদি জমি এখন সারি সারি কুলগাছে ছেয়ে গেছে। গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই, আপেল, বাউকুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেল কুল, ঢাকা নাইনটি, টক কুলসহ নানা জাতের কুল।

সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক জানান, তার ভবানীপুর মাঠে দুই বিঘা কুলের বাগান রয়েছে। তার কুলবাগানে তিন রকমের কুল রয়েছে। সেগুলো হলো ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী ও টক কুল। গত বছরের তুলনায় তার বাগানে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছেন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে, বিশেষ করে কীটনাশক ও সারের যে পরিমাণে দাম তাতে চাষে খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। 

তিনি জানান, তার দুই বিঘা জমিতে কুল চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। দুই বিঘা জমিতে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার লাভটা কম হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। একই এলাকার কুলচাষি মোরশেদুল আলম জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে চার প্রকারের কুল চাষ করেছেন। টক, থাই আপেল, বল আপেল ও বিলাতি কুল। তিনি বলেন, বিলাতি কুল ১৭০-১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্যগুলো ১২০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুলবাগানের শ্রমিক আকছেদ আলী জানান, সারা দিন কুলবাগানে কাজ করে তিনি প্রতিদিন সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পান। তাই দিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোই আছেন।

বাঁশদহা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান ডালিম জানান, এই ইউনিয়নে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে এবার কুল চাষ হয়েছে। এসব জমিতে থাই কুল, আপেল কুল, নারিকেল কুল ও টক কুল চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে এসব কুলচাষিকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনির হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার কুলের আবাদ হয়েছে; যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টনের ওপরে কুল উৎপাদন হবে এবং এর বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ইতোমধ্যে এসব কুল বাজারে আসা শুরু করেছে। তিনি বলেন, সাতক্ষীরার নামকরণে যে সাতটি প্রসিদ্ধ জিনিস রয়েছে তার মধ্যে কুল একটি অন্যতম ফল। 

সাতক্ষীরার নামের সঙ্গে কুলের যে ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে, সে ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ জেলায় উৎপাদিত কুল মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। 

[Disclaimer: You may visit the news source-www.khaborerkagoj.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর