Beta Ver. 0.04
Wednesday, October 28, 2026
Homeজাতীয়শহিদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মবার্ষিকী আজ

শহিদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মবার্ষিকী আজ

রবিবার (৩ মে) শহিদ জননী জাহানারা ইমামের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৯ সালের এই দিনে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলনের এই অগ্রসেনানী বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন।

রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম হলেও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিতা আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে তিনি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হন। ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে বিএ এবং পরে ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

পেশাগত জীবনে জাহানার ইমাম ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। ১৯৫২ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে আমেরিকা থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষকতা করেন।

তবে জাহানারা ইমাম দেশজুড়ে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেন তার কালজয়ী গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’র মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি তার জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমী এবং স্বামী শরীফ ইমামকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের সেই দুঃসহ দিনগুলোর প্রামাণ্য দলিল হিসেবে পরিচিত তার এই দিনপঞ্জি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের হৃদয়ে দেশপ্রেমের নতুন শিখা প্রজ্বলিত করে।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে তিনি কেবল সাহিত্যচর্চায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত হচ্ছিল, তখন তিনি রাজপথে নেমে আসেন। ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী ও তরুণ প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলেন ঐতিহাসিক গণ-আদালত।

তৎকালীন সরকার তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দিলেও তিনি মরণব্যাধি ক্যানসার ও রাজনৈতিক চাপকে উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যান। ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই মহীয়সী নারীর মৃত্যু হয়।

[Disclaimer: You may visit the news source- www.khaborerkagoj.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর