দরপতনের মধ্য দিয়ে গত সপ্তাহ পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে সপ্তাহজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা কমেছে।
গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসে মূল্যসূচক বেড়েছে। বিপরীতে দুই কার্যদিবসে কমেছে। এর পরও সপ্তাহের ব্যবধানে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার দ্বিগুণের বেশির কমেছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১৭টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২৫টির। আর ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচকও কমেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১১ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ২ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট বা দশমিক ১০ শতাংশ। ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।
এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তার আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৯০২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা লেনাদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, যমুনা ব্যাংক, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে দাম বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ৯০ পয়সায়।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি। কোম্পানিটির শেয়ার দর এক সপ্তাহে বেড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াইপিএল লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে ২২ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার দর বেড়ে এ অবস্থানে উঠে এসেছে কোম্পানিটি।
সপ্তাহজুড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসা কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে এআইএল ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ, আজিজ পাইপস লিমিটেড ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ, আইসিবি এমপিএফ ওয়ান স্কিম ওয়ান ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে পতনের শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি। কোম্পানিটির শেয়ার দর কমে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর এক সপ্তাহে কমেছে ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৭ দশমিক ০১ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে দরপতনের শীর্ষে থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, আইএলএফএসএল ১৬ শতাংশ, ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেড ১৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ফার্স্ট অ্যাসোসিয়েটেড সিকিউরিটিজ ফাইন্যান্স ১২ শতাংশ এবং প্রাইম ব্যাংক পিএলসি ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ দর কমেছে।
এ ছাড়া সিএসই-৩০ সূচক দশমিক শূন্য ২ শতাংশ ও সিএসই-৫০ সূচক দশমকি শূন্য ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৩ হাজার ৬২ পয়েন্টে ও ১ হাজার ১১৩ পয়েন্টে। তবে এক্সচেঞ্জটি প্রধান মূল্যসূচক সিএসসিএক্স দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৯৩ পয়েন্টে উঠেছে।
গত সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩০৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৬টির, কমেছে ১৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির কোম্পানির শেয়ার দর।
[Disclaimer: You may visit the news source-www.khaborerkagoj.com]

