Beta Ver. 0.04
Wednesday, October 28, 2026
Homeজাতীয়এ বছর নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে: রয়টার্সকে নাহিদ ইসলাম

এ বছর নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে: রয়টার্সকে নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পুরোপুরি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। এ অস্থিরতার কারণে এ বছর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হবে।’ রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

এনসিপি-প্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর দেয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশিং ব্যবস্থায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি না।’

তবে তিনি জানান, নির্বাচন যখনই হোক, তার জন্য প্রস্তুত থাকবে এনসিপি।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থানে গত আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের প্রধান নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসেই বলেছেন, ‘অস্থিরতা থাকলেও ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।’

নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গত সাত মাসে আমরা সবাই আশা করেছিলাম, স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশিং ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে। এটা কিছুটা বাস্তবায়ন হয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশামতো হয়নি।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে গত মাসে ছাত্র-তরুণদের উদ্যোগে গঠিত দল এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন নাহিদ ইসলাম। নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেয়া সময়সীমা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করা প্রথম রাজনীতিক তিনিই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলটি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে নতুন চেহারা দিতে পারে। কয়েক দশক ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এ দেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় রেখে আসছে। এ দলগুলো দ্রুত নির্বাচনের দাবি করছে। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া উচিত।

বাংলাদেশে অস্থিরতার নানা ঘটনা ঘটছে, যার মধ্যে হাসিনা সরকারের বিভিন্ন প্রতীকের ওপর হামলা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়গুলো রয়েছে। হিন্দুসহ অন্য সংখ্যালঘুদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলার খবরও রয়েছে, যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এসব খবরকে অতিরঞ্জন বলছে।

অবশ্য নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে “‍জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র” নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো জরুরি। এটা একটা সনদ হবে, যেটা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সনদে বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং গত বছরের অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো এক হাজার মানুষের প্রতি সম্মান জানানো হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এই ঘোষণাপত্র তৈরি করবে বলে জানানোর পর ছাত্ররা সংবিধান পরিবর্তনের দাবি থেকে সরে আসেন।’

নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা যদি এক মাসের মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আমরা দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানাতে পারব। কিন্তু এর জন্য যদি আরো সময় লাগে, তাহলে নির্বাচন বিলম্বিত হবে।’

নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনেক সম্পদশালী ব্যক্তি তাদের নতুন দলকে আর্থিক সহায়তা করছেন। দলের নতুন কার্যালয় চালু এবং নির্বাচনের জন্য তহবিল সংগ্রহে তারা শিগগিরই ক্রাউডফান্ডিংয়ের (জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ) দিকে যাবেন।’

[Disclaimer: You may visit the news source: https://www.bonikbarta.com/]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর