প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।’ ঢাকায় সরকারি বাসভবন যমুনায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ইংরেজি সাক্ষাৎকারটি গতকাল বিবিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুদিন পর শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা করে। শেখ হাসিনার পতনের পর যখন ইউনূসকে সরকারের দায়িত্ব নিতে বলা হয়, তখন তিনি ‘হকচকিত’ হয়ে পড়েছিলেন। সে কথা তুলে ধরে তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘সরকারের নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। আগে কখনো সরকারযন্ত্রের কোনো অংশ চালাইনি এবং সেই দায়িত্বই তখন কাঁধে এল।’
দায়িত্ব নেয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও অর্থনীতি ঠিক করাই দেশের জন্য অগ্রাধিকার ছিল জানিয়ে ইউনূস বলেন, ‘এসব ঠিক হওয়ার পরে আমরা সংগঠিতভাবে কাজ শুরু করি।’
ইউনূস বলেন, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং অর্থনীতি। ভেঙে চুরমার হয়েছে অর্থনীতি, বিধ্বস্ত অবস্থা। যেন ১৬ বছর ধরে কোনো ভয়ানক টর্নেডো চলছে এবং আমরা (বিধ্বস্ত) টুকরোগুলো এক করার চেষ্টা করছি।’
বিবিসি লিখেছে, ইউনূস সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেখ হাসিনা ভাষণ দিতে আসছেন, এমন ঘোষণায় গত ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের অনেকের বাড়িঘরে ভাংচুর হয়। এর মধ্যে শেখ হাসিনার বাবা প্রয়াত শেখ মুজিবের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ‘সহিংসতাকে বৈধতা দেয়ার’ অভিযোগ তুলেছে। দলটি দাবি করছে, বাংলাদেশ তাদের জন্য নিরাপদ নয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইউনূস বিবিসিকে বলেন, ‘আদালত রয়েছে, আইন রয়েছে, থানা রয়েছে—তারা সেখানে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারে। কেবল বিবিসির সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করলেই হবে না, আপনাকে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে হবে এবং দেখুন আইন তার পথে রয়েছে কিনা।’
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও তার দল এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশে তার বিচারের প্রক্রিয়া চলছে। এমন প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘তারা এটা (ভোট) করতে চায় কিনা সেই সিদ্ধান্ত তাদেরকেই (আওয়ামী লীগ) নিতে হবে। তাদের সিদ্ধান্ত তো আমি নিতে পারি না। কারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তা নির্বাচন কমিশন ঠিক করে।’
বিবিসি লিখেছে, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর লৌহমুষ্টিতে বাংলাদেশ শাসন করেন শেখ হাসিনা। তার আওয়ামী লীগ সরকারের সদস্যরা ভিন্নমতকে নির্মমভাবে দমন করে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের হত্যা ও কারাগারে পাঠানোর ব্যাপক অভিযোগ ছিল।
ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থান শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করে। আন্দোলনকারীদের চাওয়ামতো নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ইউনূস।
[Disclaimer: You may visit the news source: https://www.bonikbarta.com/]

