Beta Ver. 0.04
Wednesday, October 28, 2026
Homeসহযোগী সংবাদমাধ্যমDhaka Postজামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার অর্থই হবে নারীদের ঘরে বন্দি করা : নাসির

জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার অর্থই হবে নারীদের ঘরে বন্দি করা : নাসির

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেছেন, জামায়াত যদি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হতে পারে, তবে তারা এ দেশের নারীদের জন্য এক ভয়াবহ ও চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার অর্থই হবে নারীদের ঘরে বন্দি করা, কর্মক্ষেত্রে নারীদের পদযাত্রা থামিয়ে দেওয়া এবং প্রতিটি পদে পদে তাদের অবমাননা করা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডাখানা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ বলে করা মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে দেওয়া পোস্টে এসব কথা বলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।

পোস্টে নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ডাকসু এ দেশের গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন– প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ডাকসুর ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা। সেই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন অশালীন ভাষা ব্যবহার জামায়াতী রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ। এ ছাড়া একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য স্পষ্ট পদ্ধতিগত নারী-বিদ্বেষ।

তিনি বলেন, আসলে জামায়াত নেতার এই বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ ‘নিমগাছে কখনো আম ফলে না’। যাদের রাজনৈতিক ডিএনএতে নারী-বিদ্বেষ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ইতিহাস লেগে আছে, তাদের মুখ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। ১৯৭১ সালে এই সংগঠনের নেতাকর্মীরাই পাকিস্তানি হায়েনাদের সাথে মিলে এ দেশের লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সহযোগী হয়েছিল। জনসভায় দাঁড়িয়ে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য মূলত তাদের সেই পুরোনো অন্ধকার ও নারী-বিদ্বেষী মানসিকতারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো বর্তমান ডাকসু নেতৃত্বের ভূমিকা। যারা তুচ্ছ ঘটনায় লম্বা বিবৃতি দেয়, তারা আজ রহস্যজনকভাবে নীরব! জামায়াত নেতার এমন জঘন্য বক্তব্যের পরেও অফিসিয়ালি কোনো প্রতিবাদ না জানানোই প্রমাণ করে যে, শিবির পরিচালিত এই বর্তমান ডাকসু এখন জামায়াতের ‘দলদাসে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাকসুর জন্য এটি চরম লজ্জার।

পোস্টে নাসির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা নিয়ে এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য দল হিসেবে জামায়াতকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

এছাড়াও পোস্টের দ্বিতীয় অংশে তিনি বলেন, ডাকসুর সদস্য সর্বমিত্র চাকমার একের পর এক অমানবিক ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। কখনো অসহায় বৃদ্ধকে লাঞ্ছিত করা, তো কখনো কোমলমতি শিশুদের কান ধরে উঠবস করানো– এই কি একজন ছাত্র প্রতিনিধির কাজ? আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ধৃষ্টতা তিনি কোথায় পেলেন? বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, সর্বমিত্রের এই দানবীয় দাপট তার একার নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পরিকল্পিত ইন্ধন। আপনারা জানেন, তিনি ছাত্রশিবির মনোনীত প্যানেল থেকে নির্বাচিত। পর্দার সামনে সর্বমিত্রের মুখ দেখা গেলেও এসব অরাজকতার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে মূলত শিবির। এটি তাদের চিরচেনা দমনমূলক, সহিংস ও কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই এক কদর্য বহিঃপ্রকাশ। সর্বমিত্রের এহেন কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে, শিবিরের হাতে ছাত্রসংসদের দায়িত্ব দেওয়া বানরের হাতে খন্তা দেওয়ারই নামান্তর।

নাসির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে একটি যথাযথ তদন্ত কমিটি গঠন করে সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

[Disclaimer:You may visit the news source-www.dhakapost.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর