Beta Ver. 0.04
Wednesday, June 17, 2026
Homeআন্তর্জাতিকআসামকে বাংলাদেশের অংশ করার চেষ্টা হতে পারে, জনসংখ্যা নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রী...

আসামকে বাংলাদেশের অংশ করার চেষ্টা হতে পারে, জনসংখ্যা নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের

আসামের ‘পরিবর্তিত’ জনসংখ্যা নিয়ে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। শনিবার বিজেপির রাজ্য নির্বাহী সভায় তিনি বলেন, রাজ্যে ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’ লোকদের জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে আসামকে বাংলাদেশের অংশ করার প্রচেষ্টা শুরু হতে পারে।

হিমন্ত এই পরিস্থিতিকে আসামের পরিচয় ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করেন। পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন যে বর্তমানে ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’ মানুষের জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এই বাস্তবতা আমাদের নিজেদের চোখে দেখছি। যদি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের এই জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি হয়ে যায় তবে আসামের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।’ বাংলাদেশে সম্প্রতি দীপু দাসের গণপিটুনির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আসামের জনগণকে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, ‘আজ যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তবে আসামের মানুষ কল্পনা করতে পারেন যে আগামী ২০ বছরে এখানে কী পরিস্থিতি হবে।’ তিনি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে তারা কাকে সমর্থন করবেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, ‘সভ্যতার যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে কংগ্রেস কয়েক দশক ধরে তোষণের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে, যার কারণে রাজ্যে একটি ‘নতুন সভ্যতা’ গড়ে উঠেছে; ‘তাদের’ সংখ্যা এখন প্রায় ১.৫ কোটিতে পৌঁছেছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘আমাদের জমি, পরিচয় রক্ষা করার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।’ বিজেপিকে আসামের জন্য ‘আশার শেষ আলো’ হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অন্ধকারের অতল গহ্বরে পড়তে পারে রাজ্য। তা থেকে একমাত্র বিজেপিই রাজ্যকে রক্ষা করতে পারে।’ পুরনো আদমশুমারির তথ্য তুলে ধরে হিমন্ত বলেন যে ২০১১ সালে রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ৩৪ শতাংশ, যার মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানরা ছিল ৩১ শতাংশ এবং স্থানীয় মুসলমানরা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটি ৪০ শতাংশ হয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আদিবাসী জনসংখ্যা ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে তা আরও হ্রাস পাবে। হিমন্ত দাবি করেন, তার জীবদ্দশায় অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা ২১ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি তার ভাষণের শেষে অহোম সেনাপতি লাচিত বরফুকনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে আমরা আমাদের পরিচয় ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে এবং বিজয় অর্জনের জন্য নিরলসভাবে লড়াই করব।’

[Disclaimer:You may visit the news source-www.amadershomoy.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর