Beta Ver. 0.04
Wednesday, October 28, 2026
Homeসহযোগী সংবাদমাধ্যমইত্তেফাকশীতে কাঁপছে যমুনা পাড়ের মানুষ

শীতে কাঁপছে যমুনা পাড়ের মানুষ

তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার মানুষের। তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় শীতে কাবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড ঠান্ডায় স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষরা।যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র বিধৌত ইসলামপুর উপজেলায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় পুরো উপজেলা ঢেকে গেছে। বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। চরাঞ্চলে শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। গত কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় প্রচণ্ড শীতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি চলে আসার কারণেই তাপমাত্রা এতটা নিচে নেমে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তীব্র শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। কাঠ ও খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই তাদের একমাত্র ভরসা। অন্যান্য বছর শীতের শুরুতেই দানশীল ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ করা হলেও এ বছর এখনো তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে যমুনার চরাঞ্চলের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছেন।হিমেল আবহাওয়ায় খেটে খাওয়া মানুষরা অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও। ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। অনেক কৃষক পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন। প্রচণ্ড শীতে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে।সরেজমিনে বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া গ্রামের মোতালেব হোসেন বলেন, এত ঠান্ডায় হাঁটাচলা করা যায় না। সারাদিন আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়।একই গ্রামের শাবানা বেগম বলেন, আমরা নদীভাঙনের শিকার মানুষ। ঠান্ডার মধ্যে নদী পার হয়ে কিছু আনতেও পারছি না। ঘরে কম্বল নেই, খেতাও ঠিকমতো গায়ে দেওয়া যায় না।

সাপধরী ইউনিয়নের কাঁশারীডোবা গ্রামের রহমত আলী বলেন, ঠান্ডায় বাইরে থাকা যায় না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।পাথর্শী ইউনিয়নের মোরাদাবাদ গ্রামের যমুনা নদীর পাড়ের বাসিন্দা জাফর আলী জানান, নদীর পাড়ে বসবাস করায় ঠান্ডা বাতাসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং কাজ করতে পারছেন না। কুলকান্দি ইউনিয়নের বেড়কুশা গ্রামের আলম মিয়া বলেন, যমুনার পাড়ে বাড়ি হওয়ায় শীতে চরম কষ্টে দিন কাটছে।শীত থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে বা খোলা স্থানে আগুন পোহাচ্ছেন। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র শীতে কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেকের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও গরম কাপড় বিতরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

[Disclaimer: You may visit the news source-www.ittefaq.com.bd]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর