Beta Ver. 0.04
Wednesday, October 28, 2026
Homeআন্তর্জাতিকটোকিও থেকে ওসাকায় হবে চালকবিহীন কার্গো করিডোর

টোকিও থেকে ওসাকায় হবে চালকবিহীন কার্গো করিডোর

ট্রাকচালকের সংকটে ভুগছে এশিয়ার অন্যতম অর্থনীতি জাপান। এ সমস্যার সমাধানে টোকিও থেকে ওসাকার মধ্যে চালকবিহীন কার্গো পরিবহন করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে ‘কনভেয়ার বেল্ট রোড’। প্রকল্পটির অর্থায়ন এখনো নির্ধারণ না হলেও ক্রমবর্ধমান সরবরাহ চাহিদা মোকাবেলা একে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর এপি।

এ বিষয়ে জাপান সরকার গ্রাফিকস ভিডিও তৈরি করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বড় আকারের চাকা লাগানো বাক্স তিন লেনের করিডোর দিয়ে চলাচল করছে, যা একটি বড় হাইওয়ের মাঝামাঝি ‘অটো ফ্লো রোড’ নামেও পরিচিত। ২০২৭ বা ২৮ সালের শুরুতে চালকবিহীন কার্গো পরিবহনের এ প্রকল্প পরীক্ষামূলক চালু হতে পারে। এরপর ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য রয়েছে জাপান সরকারের।

প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ইউরি এন্ডো। তিনি বলেন, ‘আমাদের সড়কের ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আনার প্রয়োজন রয়েছে।’

চালক সংকট ও শ্রমের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি এ ব্যবস্থা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এন্ডো বলেন, ‘অটো ফ্লো রোডের মূল ধারণা হলো সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ২৪ ঘণ্টা স্বয়ংক্রিয় ও চালকবিহীন পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি করা।’

পরিকল্পনা অনুসারে, জাপানে ফর্কলিফ্ট ব্যবহার করে বিমানবন্দর, রেলওয়ে ও বন্দরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে লোডিং স্বয়ংক্রিয় করা হবে। চাকা লাগানো বাক্সগুলোর উচ্চতা প্রায় ১৮০ সেন্টিমিটার বা ছয় ফুট এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১১০ সেন্টিমিটার বা ৩ দশমিক ৬ ফুট। স্বয়ংক্রিয় কার্গো ব্যবস্থাটির পরিকল্পনা ব্যবসায়িক ডেলিভারির জন্য নেয়া হয়েছে। এটি সফল হলে অন্যান্য রুটেও এ পরিকল্পনা সম্প্রসারণ করা হতে পারে। শেষ পর্যায়ের ডেলিভারি অর্থাৎ গ্রাহকের বাড়ি পর্যন্ত পণ্য পৌঁছানোর কাজে মানুষ হয়তো থাকবে। তবে ভবিষ্যতে চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতে পারে।

জাপানে চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রণীত এক আইনের ফলে চালক সংকট আরো তীব্র হয়েছে। সে আইনে চালকদের ওভারটাইম সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। কাজের চাপ ও দুর্ঘটনার মাত্রা কমাতে আইনটি প্রণীত হলেও জাপানের সরকারি ও লজিস্টিকস খাতে এটি ‘২০২৪ সমস্যা’ নামে কুখ্যাতি পেয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে জাপানের পরিবহন ক্ষমতা ৩৪ শতাংশ কমে যাবে বলে সরকার অনুমান করছে। জাপান ট্রাকিং অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট অভ্যন্তরীণ পরিবহন ক্ষমতা প্রায় ৪৩০ কোটি টন।

যার মধ্যে ৯১ শতাংশের বেশি পণ্য ট্রাকের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।

মহামারীর সময় অনলাইন কেনাকাটার চাহিদা বেড়েছে জাপানে। দেশটির সামগ্রিক জনসংখ্যা ক্রমাগত কমলেও জাপানের প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে অনলাইন কেনাকাটায় নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৬০ শতাংশের ওপর।

দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হয় বলে জাপানে গাড়ি চালানো তেমন আকর্ষণীয় পেশা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ডেলিভারি ট্রাকের দুর্ঘটনায় বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় এক হাজারের মধ্যে ছিল, যা ২০১০ সালে প্রায় দুই হাজার মৃত্যুর তুলনায় অনেকটাই কমেছে। তবে ট্রাকিং অ্যাসোসিয়েশন আরো নিরাপদ ডেলিভারি নিশ্চিতের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ধরনের পরিকল্পনা সাধারণত কম অপরাধপ্রবণ ও কম বসতি রয়েছে এমন দেশগুলোয় কার্যকর হতে পারে। জাপান এক্ষেত্রে ভালো উদহারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বৃহৎ দেশগুলোর জন্য এ পরিকল্পনা উপযুক্ত নাও হতে পারে। সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য একই ধরনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। সুইজারল্যান্ডে একটি ভূগর্ভস্থ পথ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। লন্ডনে একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে, যেখানে কম খরচে সরলরৈখিক মোটর ব্যবহার করা হবে।

[ Disclaimer: You may visit the news source: https://bonikbarta.com/]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর