Beta Ver. 0.04
Tuesday, October 27, 2026
Homeজাতীয়কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি ও হটলাইন চালুর নির্দেশনা

কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি ও হটলাইন চালুর নির্দেশনা

শিক্ষার্থী নিপীড়ন ও অনৈতিক আচরণ প্রতিরোধে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি গঠন, মনিটরিং সেল শক্তিশালী করা এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান। সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতিটি দেওয়া হয়।

হেফাজতের নেতারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ কিংবা শিশু নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও সমর্থনযোগ্য নয়। প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তারা বলেন, শিশুদের যৌন নির্যাতন দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক সমস্যা। এটি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। তাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থী নিপীড়ন প্রতিরোধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মাদ্রাসায় ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন করতে হবে। আগে থেকে কমিটি থাকলে তা সক্রিয় রাখতে হবে। শিক্ষার্থী নিপীড়ন বা অনৈতিক আচরণের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডগুলোকে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালু করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকলে কিংবা অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে।

হেফাজতের আমির ও মহাসচিব বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য স্কুল ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নীতিমালা অনুসরণের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, অনৈতিক আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা আপসের সুযোগ নেই।

সব স্কুল ও মাদ্রাসাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে হেফাজতের নেতারা বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সুশিক্ষা, নিরাপত্তা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

[Disclaimer: You may visit the news source- www.ittefaq.com.bd]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর