Beta Ver. 0.04
Wednesday, October 28, 2026
Homeবিজ্ঞানক্ষুদ্র বরফশীতল মহাজাগতিক বস্তুতেও মিলল পাতলা বায়ুমণ্ডল

ক্ষুদ্র বরফশীতল মহাজাগতিক বস্তুতেও মিলল পাতলা বায়ুমণ্ডল

সৌরজগতের একেবারে প্রান্তে, নেপচুনের কক্ষপথের বাইরে বিস্তৃত কাইপার বেল্টে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন, যা বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার ব্যাসের এই ক্ষুদ্র বরফশীতল বস্তুটির নাম ‘২০০২ এক্সভি৯৩’, এবং আশ্চর্যজনকভাবে এতে একটি অত্যন্ত পাতলা বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

এতদিন ধারণা করা হতো, সৌরজগতের এই দূরবর্তী ও শীতল অঞ্চলে কেবল প্লুটোর মতো বড় আকারের বামন গ্রহেরই বায়ুমণ্ডল থাকতে পারে। কিন্তু নতুন এই আবিষ্কারের মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত ছোট বস্তুতেও বায়ুমণ্ডল গঠিত হতে পারে, যা সৌরজগতের এই অঞ্চলকে আরও গতিশীল ও জটিল করে তুলেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, বস্তুটির বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তুলনায় প্রায় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ভাগ পাতলা। এমনকি প্লুটোর হালকা বায়ুমণ্ডলের তুলনায়ও এটি ৫০ থেকে ১০০ গুণ কম ঘন। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই বায়ুমণ্ডলে মিথেন, নাইট্রোজেন বা কার্বন মনোক্সাইডের মতো উদ্বায়ী গ্যাস থাকতে পারে।

এই গবেষণার প্রধান লেখক জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির জ্যোতির্বিজ্ঞানী কো আরিমাত্সুর মতে, এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে সৌরজগতের প্রান্তের ছোট বরফশীতল বস্তুগুলো মোটেও স্থির বা নিষ্ক্রিয় নয়। বরং এগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ভৌত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে।

গবেষকরা দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই বায়ুমণ্ডলের উৎপত্তি নিয়ে। প্রথমত, এটি স্থায়ী বায়ুমণ্ডল হতে পারে, যা ক্রায়োভলকানিজম বা বরফ-আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে গ্যাস নির্গমনের ফলে টিকে আছে। অর্থাৎ, বস্তুটির অভ্যন্তর থেকে ফাটলের মাধ্যমে গ্যাস বেরিয়ে এসে চারপাশে একটি পাতলা আবরণ তৈরি করছে।

অন্য ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, এটি সাময়িক বায়ুমণ্ডলও হতে পারে। কোনো ছোট মহাজাগতিক বস্তুর সংঘর্ষের ফলে নির্গত গ্যাস কিছু সময়ের জন্য এই বায়ুমণ্ডল তৈরি করে থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী জুনিচি ওয়াতানাবে জানান, যদি দীর্ঘমেয়াদে এই বায়ুমণ্ডল টিকে থাকে, তবে বোঝা যাবে যে বস্তুটির ভেতর থেকে নিয়মিত গ্যাস নির্গত হচ্ছে। অন্যদিকে এটি যদি দ্রুত বিলীন হয়ে যায়, তবে তা সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ফল বলেই ধরা হবে।

এই গবেষণাটি জাপানের বিভিন্ন শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ‘স্টেলার অকুলেশন’ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে কোনো বস্তু একটি দূরবর্তী তারার সামনে দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার আলো সাময়িকভাবে কমে যায়, যার বিশ্লেষণ থেকে বস্তুর আকার, ঘনত্ব ও বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

কাইপার বেল্টে অবস্থিত এই বস্তুটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ২৪৭ বছর সময় নেয় এবং সূর্য থেকে প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ থেকে ৪৪ দশমিক ৬ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরত্বে অবস্থান করে। ধারণা করা হয়, এই অঞ্চল সৌরজগতের জন্মের সময়, প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়েছিল।

গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন, ‘২০০২ এক্সভি৯৩’ নামটি বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর হলেও উচ্চারণ ও মনে রাখা কঠিন। তাই গবেষণা দলের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে একে ‘এক্সভি৯৩’ বলা হয়। ভবিষ্যতে এর জন্য আরও আকর্ষণীয় নাম প্রস্তাব করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন।

এই আবিষ্কার সৌরজগতের প্রান্ত সম্পর্কে বিদ্যমান ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। ছোট ও বরফশীতল এই জগতগুলো যে সক্রিয় ও পরিবর্তনশীল হতে পারে, সেটিই এখন নতুন করে সামনে আসছে।

[Disclaimer: You may visit the news source- www.dainikamadershomoy.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর