Beta Ver. 0.04
Monday, June 1, 2026
Homeজাতীয়কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মব সংস্কৃতির জেরে গভর্নরের উপদেষ্টার পদত্যাগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মব সংস্কৃতির জেরে গভর্নরের উপদেষ্টার পদত্যাগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ওপর সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত মব বা গণ-হয়রানির ঘটনার প্রেক্ষাপটে পদত্যাগ করেছেন তার উপদেষ্টা মো. আহসান উল্লাহ। 

বুধবার (৪ মার্চ) তিনি গভর্নরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। 

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে সংঘটিত মব-সংস্কৃতির একটি অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে তিনি নিরাপত্তা শঙ্কায় সেদিন বিকেলেই অফিসিয়াল পরিবহনে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি আর পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না বলে চিঠিতে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন।

আহসান উল্লাহর পদত্যাগপত্রে তার চুক্তির মেয়াদ ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। চিঠিতে বলা হয় যে, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আগে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তির ১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে গণনা করে ৩০ দিনের পূর্ব নোটিশে তার পদত্যাগ কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি গভর্নরের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন এই নোটিশকেই তার চূড়ান্ত পদত্যাগপত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকে এক বছর এক মাস ১৮ দিনের দায়িত্ব পালনকাল নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মো. আহসান উল্লাহ। পদত্যাগপত্রে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থাপনার কাছ থেকে প্রাপ্ত সার্বিক সহযোগিতা ও সম্মানের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তবে মব সংস্কৃতির মতো ঘটনা একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থায় তার কাজ করার মানসিক পরিবেশ নষ্ট করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বিদায়ী উপদেষ্টা মনে করেন, এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং এই পদত্যাগের ঘটনাটি আর্থিক খাতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে বিভিন্ন দাবিদাওয়ার প্রেক্ষিতে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার প্রস্থান ঘটল। 

গভর্নরের কার্যালয় থেকে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ পদের এই শূন্যতা ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

[Disclaimer: You may visit the news source- www.ittefaq.com.bd]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর