Beta Ver. 0.04
Wednesday, October 28, 2026
Homeজাতীয়বইমেলা ঈদের পরে চেয়ে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা প্রকাশনা ঐক্যের

বইমেলা ঈদের পরে চেয়ে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা প্রকাশনা ঐক্যের

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ ঈদের পরে আয়োজন ও বাংলাদেশের রুগ্ণ প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্রকাশনা ঐক্য।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক চিঠির মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের প্রকাশকদের পক্ষে তারা এই আবেদন জানায়।

চিঠিতে বলা হয়, গত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় প্রকাশনা শিল্প এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কাগজের আকাশচুম্বী দাম এবং আনুষঙ্গিক সংকটে প্রকাশকরা আজ দিশেহারা।

এমন এক বাস্তবতায়, বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মাহে রমজানে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। রোজার ফলে দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরাই বইমেলার প্রাণ। তাদের অনুপস্থিতিতে এবং রোজার মাসে অনুষ্ঠেয় এই মেলা হবে নিশ্চিতভাবেই পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ। 

দেশের ৯০ ভাগ প্রকাশক মনে করছেন, এই সময়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা হবে তাদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র শামিল। এই অবস্থায় কাদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই মেলা আয়োজনে এত তৎপরতা, এবং এখানে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কিনা, সে নিয়ে আমাদের প্রশ্ন জাগে।

আমরা মেলা বর্জন করতে চাই না, আমরা চাই একটি ‘সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা’। আমাদের দাবি ছিল- পবিত্র রমজান ও নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক, যখন পাঠকদের হাতে সময় ও অর্থ- উভয়ই থাকবে। 

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষা করে এক প্রকার জোর করেই প্রকাশকদের একটি ব্যর্থ মেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যেই মেলায় দেশের সামনের সারির প্রায় সব প্রকাশকসহ তিন শতাধিক মূল ধারার প্রকাশক অংশ নিতে অপারগ।

চিঠিতে বলা হয়, সামনেই আপনি সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। একটি নতুন সরকারের যাত্রা শুরুতে আমরা চাই না একুশের চেতনার এই মেলাটি কোনোভাবে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হোক। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সুচিন্তিত একটি নির্দেশই পারে ধ্বংসের হাত থেকে এই শিল্পকে বাঁচাতে।

প্রকাশক ঐক্য তারেক রহমানের কাছে যে দুটি দাবি উত্থাপন করেছে সেগুলো হলো- ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘোষিত ‘নামমাত্র’ বইমেলা স্থগিত করার নির্দেশনা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে এবং সব প্রকাশকদের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাণবন্ত বইমেলা আয়োজনের ব্যবস্থা করা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এই দুটি সিদ্ধান্ত নিলে শুধু হাজারো প্রকাশক দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাবে না, বরং প্রমাণ করবে যে- নতুন সরকার জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং জনমতের প্রতি কতটুকু শ্রদ্ধাশীল। 

প্রকাশক ঐক্যের পক্ষে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তারা হলেন- মেছবাহউদ্দীন আহমদ (প্রকাশক, আহমদ পাবলিশিং হাউজ); এ কে নাসির আহমেদ (প্রকাশক, কাকলী); মাজহারুল ইসলাম (প্রকাশক, অন্যপ্রকাশ); মনিরুল হক (প্রকাশক, অনন্যা); সৈয়দ জাকির হোসাইন (প্রকাশক, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন); জসীম উদ্দিন (প্রকাশক, কথাপ্রকাশ); মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (প্রকাশক, বাতিঘর প্রকাশনী; বেস্টসেলার থ্রিলার লেখক); মো. মোবারক হোসেন (পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক, প্রথমা প্রকাশন); মো. গফুর হোসেন (প্রকাশক, রিদম প্রকাশনা সংস্থা); ইকবাল হোসেন সানু (প্রকাশক, লাবনী); দীপঙ্কর দাশ (প্রকাশক, বাতিঘর); মো. জহির দীপ্তি (প্রকাশক, ইতি প্রকাশন; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬), মাহ্‌রুখ মহিউদ্দীন (প্রকাশক, ইউপিএল; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬) ও মাহাবুব রাহমান (প্রকাশক, আদর্শ; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬)

[Disclaimer: You may visit the news source-www.khaborerkagoj.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর