খুলনায় খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার ও জয়েন্ট পরিবহন মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে জরুরি খাদ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে৬ ট্রাক সিন্ডিকেট বাতিলের দাবিতে খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতি অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করলে খুলনার মহেশ্বরপাশা, সিএসডি গোডাউন, ৪নং ও ৭নং ঘাট অঞ্চলের ট্রাক লোড আনলোড বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, খুলনায় পণ্য পরিবহনে জয়েন্ট পরিবহন মালিক সমিতির ট্রাক ভাড়া করতে ঠিকাদারকে বাধ্য করা হয়। এতে পরিবহন ঠিকাদার ও প্রকৃত ট্রাক মালিক দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠিকাদার সমিতির অনির্দিষ্ট কর্মবিরতি প্রত্যাহার না হলে অচল হয়ে পড়বে জরুরি সেবা। কর্মহীন হয়ে পড়বে খুলনার প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক। ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
জানা যায়, খাদ্য পরিবহন ঠিকাদারদের সঙ্গে চাল, গমসহ খাদ্যপণ্য খুলনা থেকে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতে ‘চলাচল ও সংরক্ষণ খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের’ সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। কিন্তু খুলনায় জয়েন্ট পরিবহন মালিক সমিতির দৌরাত্ম্যে ঠিকাদাররা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী পণ্য পরিবহনের ট্রাক ভাড়া করতে পারেন না। জয়েন্ট পরিবহন মালিক সমিতির মাধ্যমে ট্রাক ভাড়া করলে তাদেরকে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হয়। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
খুলনা খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সভাপতি এস এম আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, ‘খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় খাদ্য বিভাগের সঙ্গে কাজ করতে সরকারের লাইসেন্সকৃত পরিবহন আছে। এই পরিবহনের কাছে ট্রাক ভাড়া করার স্বাধীনতা আমাদের আছে। যেকোনো ট্রান্সপোর্ট থেকে আমরা সুবিধামতো গাড়ি নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারি। এক জায়গায় গাড়ি না পেলে অন্য জায়গা থেকে গাড়ি নিতে পারি। কিন্তু খুলনার মহেশ্বরপাশা, সিএসডি, ৪ ও ৭ নং ঘাটে বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন সমিতির গাড়ি ভাড়া করার স্বাধীনতা নেই। এর কারণ হচ্ছে খুলনায়১ জয়েন্ট ট্রান্সপোর্ট নামে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীদের গাড়ি নিতে বাধ্য করা হয়। বিগত সরকারের আমলেও তারা আমাদেরকে বাধ্য করেছিল। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পরে কিছুদিন শিথিল ছিল, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর তা আবার সচল হয়ে উঠেছে। ট্রাক মালিকদের এই সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের পক্ষে এখন ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না।’
খুলনার খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জয়েন্ট পরিবহন মালিক সমিতি যে রেট দেবে, সেই রেটেই গাড়ি নিতে হবে। প্রতি গাড়িতে তিন থেকে চার হাজার টাকা বেশি দিতে হয়। এ ছাড়া তাদের গাড়ির কোনো লাইসেন্স নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি হলেও বাড়তি টাকা দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।’
তবে এ বিষয়ে খুলনা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। খাদ্য অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়েছে, দুপক্ষ বসলে সমাধান হয়ে যাবে।’
এদিকে চলাচল ও সংরক্ষণ খুলনা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ মশিয়ার রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারদের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে তাদের চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তারা পণ্য পরিবহন করবেন। এক্ষেত্রে কোথা থেকে কীভাবে ট্রাক ভাড়া করবেন বিষয়টি এই দপ্তরের কাজ নয়। তবে খুলনা ট্রাক মালিক সমিতি এখানে বাহিরের ট্রাক ঢুকতে দেয় না। এই অবস্থার অবসান হওয়া উচিত। অচলাবস্থার কারণে জরুরি খাদ্যপণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।’
[Disclaimer: You may visit the news source-www.khaborerkagoj.com]

