Beta Ver. 0.04
Monday, June 1, 2026
Homeজাতীয়গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট কাটেনি

গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট কাটেনি

গত সপ্তাহ থেকে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট শুরু হয়েছে। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ী বেশি দামে এই গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। তার পরও অনেকে পাচ্ছেন না। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কারণে সারা দেশে এলপিজি বিপণন ও সরবরাহে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকে। অবশ্য পরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এদিকে চলমান সংকট নিরসনে জ্বালানি বিভাগ পাঁচটি উদ্যোগ নিয়েছে।

এলপি গ্যাস কোম্পানির ডিলার কারওয়ান বাজারের মেসার্স জনতা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হক খবরের কাগজকে বলেন, এক সপ্তাহ ধরেই এলপি গ্যাসের সংকট চলছে। আগে ২০০ থেকে ২৫০টি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করা হতো। এখন ৪০ থেকে ৫০টির বেশি সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। সবাইকে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদামতো তো দূরের কথা, বেশি টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যায় না। খুচরা বিক্রেতারা গ্যাস দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে ‘দোকানে গ্যাস বিক্রি বন্ধ’ লিখে রাখছেন। 

এদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের চলমান সংকট নিরসনে জ্বালানি বিভাগ কয়েটি উদ্যোগ নিয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতি দিয়ে আমদানি পর্যায়ে এলপি গ্যাসের ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এলসি (ঋণপত্র খোলা) সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছে। পাঁচটি কোম্পানিকে বাড়তি আমদানির অনুমতি দিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে এলপিজির আমদানি বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বাজারে সরবরাহ সংকট কমে আসবে। তবে সরবরাহ সংকট কাটতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। সরকারের এসব পদক্ষেপের মধ্যে এলপিজি ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার ধর্মঘটের ডাক দেন। তবে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে বৈঠকের পর এলপিজি বিপণন ও সরবরাহে ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

বৈঠকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, চলমান অভিযানের বিষয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চার্জ বাড়াতে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। জালাল আহমেদ আরও বলেন, এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন জানিয়েছে জাহাজ-সংকটের মধ্যেও পণ্য আমদানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহের সংকট কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। এ সময় সেলিম খান বলেন, অপারেটরদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতেই তাদের ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। তাই ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার কম দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

রাজশাহীতে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি
রাজশাহী ব্যুরো অফিস জানায়, দেশব্যাপী অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও গতকাল এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখেন এলপি গ্যাস ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসীসহ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষ। গতকাল রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলপিজি ডিপো ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বন্ধ। কোথাও কোথাও তালা ঝুলতে দেখা যায়।

নগরীর উপশহর এলাকার গৃহিণী সুরাইয়া শারমিন বলেন, ‘হঠাৎ করে গ্যাস না পেয়ে বিপাকে পড়েছি। কেননা বাসায় সিলিন্ডার ছাড়া রান্নার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দোকানে এসে সব বন্ধ দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’ শিরোইল এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জানান, গ্যাস না থাকায় সকাল থেকেই হোটেল বন্ধ রাখতে হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজশাহী এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন কচি বলেন, কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বিক্রি করতে পারছেন না। রাজশাহীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে একটিও মজুত নেই।

সিলেটেও অতিরিক্ত দামে বিক্রি 
সিলেট ব্যুরো অফিস জানায়, সপ্তাহখানেক ধরে সিলেটের বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রান্নার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরবরাহ সংকট চরম পর্যায়ে। ক্রেতাদের অভিযোগ, খুচরা পর্যায়ের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম সরকার-নির্ধারিত ১ হাজার ২৫৩ টাকা হলেও জায়গা ভেদে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকার কমে মেলে না। 

ফেনীতেও এলপি গ্যাস সংকট
ফেনী প্রতিনিধি জানান, প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে সিলিন্ডার বিক্রিতে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফেনীতে প্রতিদিন চাহিদা পাঁচ হাজার সিলিন্ডার। সে অনুপাতে গ্যাস দিতে পারছে ১ হাজার ৫০০ সিলিন্ডার। ফেনীতে ওমেরা এলপিজির পরিবেশক সাইফুল ইসলাম ফটিক বলেন, ওমেরা কোম্পানির কোনো সংকট নেই। পাইকারি দামে ১ হাজার ৩৮০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে কেনা। ফেনী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা করা হচ্ছে।’

[Disclaimer: You may visit the news source- www.khaborerkagoj.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর