আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২০২৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন মোট আট বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরও। তবে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করবেন না বলে গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন।
বদরুদ্দীন উমরের বিবৃতিটি গতকাল সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠান তার দল জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। আমি সেগুলোর কোনোটি গ্রহণ করিনি। এখন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করেছে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু তাদের দেয়া এ পুরস্কারও গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে আমি এটা জানিয়ে দিচ্ছি।’
ইতিহাসবিদ, লেখক, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ। একজন সাম্যবাদী হিসেবে—পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধী ছিলেন, তবুও পূর্ব পাকিস্তানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন এবং ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন ১৯৫০ সাল থেকে। তার আগে বর্ধমান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে স্নাতকোত্তর করেন উমর। উচ্চতর ডিগ্রি নেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড থেকে।
পণ্ডিত বাবার সাহচর্য পেয়েছেন বদরুদ্দীন উমর। সেই সঙ্গে বংশের সবাই কম-বেশি বিভিন্ন দলের রাজনীতি করতেন। বিশেষত কমিউনিস্ট পার্টিতে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও ছিল অনেক। এভাবে জ্ঞানে-গুণে সুবিস্তৃত ছিল তার পরিবার। দেশের বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় অংশ যখন গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছেন, তখন বদরুদ্দীন উমর স্রোতের বিপরীতেই থেকেছেন। কাটিয়েছেন বাংলা ও বাঙালি সমাজ চিন্তা নিয়ে। আর তাতে ভূমিকা রেখেছে তার সংগ্রামী জীবনের মূল্যবোধ। শুধু তা-ই নয়, সমৃদ্ধ পরিবার ও দীর্ঘ পঠন-পাঠন থেকে ধীরে ধীরে তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, সক্রিয়তাবাদী, ইতিহাসবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং বাংলাদেশের একজন শক্তিশালী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হয়ে ওঠেন।
তিনি শিক্ষকতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই সময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে অর্থাৎ ষাটের দশকে বদরুদ্দীন উমর সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে যে সাহসী ও যৌক্তিক লেখা লিখেছেন সেগুলো এখনো প্রাসঙ্গিক। তার তিনটি বই সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬), সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭) ও সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৯) তত্ত্বকালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সময় পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তার বিরোধ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে তিনি নিজেই ১৯৬৮ সালে অধ্যাপনায় ইস্তফা দিয়ে সরাসরি রাজনীতি ও সার্বক্ষণিক লেখালেখিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
[Disclaimer: You may visit the news source: https://www.bonikbarta.com/]

