Beta Ver. 0.04
Monday, June 1, 2026
Homeআইন আদালাতইআরএফের সেমিনারে ড. ইফতেখারুজ্জামান

ইআরএফের সেমিনারে ড. ইফতেখারুজ্জামান

কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব নয়

বাংলাদেশ থেকে মোট কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব নয়। তবে ব্যাংকের মতো আনুষ্ঠানিক মাধ্যম ব্যবহার করে বছরে ১৭ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাচারের কথা জানা যায়। বিভিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে।

রাজধানীর পল্টনে গতকাল ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে ‘পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ইআরএফ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, দেশের ব্যাংক খাতকে যে খাদের কিনারায় ঠেলে দেয়া হয়েছে, তার জন্য এক নম্বর দায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক।’

এসব প্রতিষ্ঠানে গড়ে ওঠা সংস্কৃতি রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের মৌলিক সংস্কার ও ঢেলে সাজানো ছাড়া বিকল্প নেই।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বলয় প্রতিষ্ঠা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের মাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনীতি, আমলাতন্ত্র ও ব্যবসা—এ ত্রিমুখী আঁতাত মৌলিক ভূমিকা পালন করেছে। সব প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘ সময় ধরে দলীয়করণের চর্চা হয়েছে; গত ১৫-১৬ বছরে যার চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখেছি। এতে আমলাতন্ত্রকে কর্তৃত্ব দিয়েছে রাজনৈতিক শক্তি আর তা বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন এজেন্সিকে। ফলে এসব জায়গায় কতটুকু পরিবর্তন আনা যাবে, তা গুরুত্বপূর্ণ। যে পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশা করছি, তা যেন টেকসই হয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যে ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচারের কথা বলেছে, তা ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে পাচারের তথ্যের ভিত্তিতে অনুমান করা হতে পারে।’

এর বাইরেও চালান জালিয়াতি, দেশে কর্মরত বিদেশী কর্মীদের পাঠানো অর্থ, ভিসা ও অভিবাসন বাবদ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব, তবে এটি অত্যন্ত কঠিন এবং প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একটি দৃষ্টান্ত আছে, সেটি হলো সিঙ্গাপুর থেকে। দেশটি থেকে ২০০৭ সালে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৯৩০ কোটি ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়েছিল।’

গ্রিনওয়াচ ঢাকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদারের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা।

[ Disclaimer: You may visit the news source:- https://bonikbarta.com/]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর