Beta Ver. 0.04
Monday, June 1, 2026
Homeসহযোগী সংবাদমাধ্যমদেশ রূপান্তরজিহ্বার সংযমে পরকালে মুক্তি

জিহ্বার সংযমে পরকালে মুক্তি

  মুফতি মতিউর রহমান

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের সঙ্গে মিলেমিশে চলতে মানুষ পছন্দ করে। সমাজের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে চলতে গিয়ে হাজারো ভুলভ্রান্তি হবে এটাই স্বাভাবিক। অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকলে সেই ভুল থেকে ফিরে আসবে নতুবা তাতে অটল থাকবে। ভুল হতে ফিরে এসে তওবা করলে আল্লাহ তার প্রতি খুশি হন। আর যদি তওবা করে ফিরে না আসে তাহলে আল্লাহতায়ালা তার প্রতি নারাজ হন। আমাদের সমাজে হাজারো গুনাহের মধ্যে একটি গুনাহ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। সেটি হলো গিবত বা পরনিন্দা। এই গুনাহের মধ্যে সমাজের মানুষ এমনভাবে লিপ্ত যে, এটাকে তারা গুনাহই মনে করে না। যেখানে আল্লাহতায়ালা মানুষ সম্পর্কে খারাপ ধারণা করতে নিষেধ করেছেন সেখানে গিবত বা পরনিন্দা কতটা ভয়াবহ অপরাধ তা সহজেই অনুমেয়। তিনি কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক অনুমান থেকে বেঁচে থাকো। কেননা কোনো কোনো অনুমান গুনাহ।

তোমরা কারও গোপন ত্রুটির অনুসন্ধান করবে না এবং তোমরা একে অন্যের গিবত করবে না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? এটাকে তো তোমরা ঘৃণা করে থাকো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।’ (সুরা হুজুরাত ১২) এ আয়াত থেকে এটাই বোঝা যায় যে, মানুষ সম্পর্কে অযথা ধারণা করা ঠিক নয়। হতে পারে তার ধারণাটা ভুল। তা ছাড়া কাউকে যদি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে বলা হয়, সে অবশ্যই তা ঘৃণা করবে। তাহলে সে কীভাবে তার অপর ভাইয়ের গিবত বা পরনিন্দা করে? সেটাও তো তার আপন ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতোই অপরাধ। তা ছাড়া মানুষ তার জিহ্বার কারণে জাহান্নামি হবে। কেননা এর দ্বারাই সে গিবত করে থাকে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বলেন, আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্র। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, মানুষকে কোন জিনিস সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেন, ‘জবান ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি) এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে জবান বা জিহ্বা। কারণ জিহ্বা দ্বারা মানুষ আরেকজনের দোষ চর্চা করে, সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করে। এর কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজে বিশৃঙ্খলা, অশান্তি, অরাজকতা ও নৈরাজ্য নেমে আসে। এ জন্য জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। মানুষ যদি তার জিহ্বাকে হেফাজত করতে পারে তাহলে পরকালে মুক্তি পাওয়া তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। কারও পরনিন্দা করা অযথা কথার মধ্যে পড়ে। আমরা যদি অযথা কথা না বলে জিহ্বাকে সংযত করতে পারি তাহলে দুনিয়া ও আখেরাতে নিরাপদে থাকতে পারব।

জিহ্বাকে সংযত রাখা বা হেফাজত করার গুরুত্ব এ জন্য বেশি যে, এর দ্বারা বান্দার হক নষ্ট করা হয়, তাকে কষ্ট দেওয়া হয়। আর কেউ কাউকে কষ্ট দিলে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো গিবত কি? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুল অধিক জানেন। তিনি বললেন, তোমার কোনো ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, আমি যা বলি যদি তা আমার ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান থাকে, তাহলে আপনার কী অভিমত? তখন তিনি বললেন, তুমি যা বলো তার মধ্যে তাথলে তুমি তার গিবত করলে। আর যদি তার মধ্যে তা না থাকে তাহলে তুমি তার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করলে। (সহিহ মুসলিম)

[ Disclaimer: You may visit the news source: https://www.deshrupantor.com/]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর