অর্থনৈতিক গ্যাপ পূরণ করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে পরিবেশ উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সময় দেশের স্বাধীনতা একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একটা ফ্যাসিস্ট রিজিমে বাইরে থেকে সবকিছু গোছানো মনে হয়। কিন্তু ভেতরে সবকিছু ফাঁকা। এমন অবস্থায় ফ্যাসিস্ট সরকার চলে যায় এবং আমরা দায়িত্ব পাই; আমাদের জন্য কাজটা চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। অর্থনৈতিক গ্যাপ পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য। সংস্কারের চ্যালেঞ্জ কারো জন্যই সহজ ছিল না। আমাদের জন্যও সহজ নয়।’
কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ রচিত ‘স্বাধীনতা গণতন্ত্র মানবাধিকার: আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ ২০০৯-২০২৩’ বইয়ের পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বইটির ওপর আলোচনা করেন সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গীতিআরা নাসরীন এবং লেখক গবেষক ও শিক্ষক পারসা সানজানা সাজিদ।
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ‘বইটির উৎসর্গপত্রটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। সেখানে লেখা আছে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম শেষ হয় না। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে তরুণরা সে কথাই প্রমাণ করেছে। এ বইয়ের প্রতিটি লেখা একটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্র ভূমিকা রাখছে। প্রতিকূলতা থাকে, এর মধ্যেও সংবাদপত্র তার কাজ করে যায়।’
নেত্র নিউজের প্রধান সম্পাদক তাসনিম খলিল বলেন, ‘বইয়ের নামটি আরো চমৎকার হওয়ার প্রয়োজন ছিল। বইটি মূলত হাসিনাশাহীর আমলে কীভাবে বিএনপির ওপরে নির্যাতন-নিপীড়ন চলেছে তার ডকুমেন্ট এ বই। এ বইয়ের নাম হতে পারত বিএনপিনামা বা বিএনপির দিনলিপি। বইটি শুধু ডেস্কে বসে মতামত লেখাতেই সীমাবদ্ধ নয়, লেখক মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কাজ করেছেন। বিএনপির সমাবেশে একজন চিড়ামুড়িওয়ালা কীভাবে এসেছেন, সে গল্প এ বইয়ে রয়েছে। বইটিতে তারুণ্যের দেশ গড়ার প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’
আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ দেশ আমাদের সবার। এ দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। অনেকের রক্তে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। কোনো একটা গোষ্ঠী যদি গণ-অভ্যুত্থানকে নিজেদের ফসল বলে দাবি করতে চায় সেটা আমরা মেনে নেব না।’

