Beta Ver. 0.04
Monday, June 15, 2026
Homeজাতীয়হাম মোকাবিলায় প্রস্তুত ‘ফিল্ড হাসপাতাল’, শিগগির চালু

হাম মোকাবিলায় প্রস্তুত ‘ফিল্ড হাসপাতাল’, শিগগির চালু

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় প্রস্তুত করা হয়েছে ‘ফিল্ড হাসপাতাল’। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খুব শিগগির এটি চালু হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার (১০ মে) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস অডিটরিয়ামের পাশে মিলন চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে ফিল্ড হাসপাতাল। তাবু টানিয়ে আলাদা করে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। অল্প কিছু দূরত্বে কয়েকটি তাঁবুর সর্বশেষ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছিল, যা চূড়ান্তভাবে শেষ হলেই সেখানে হাম আক্রান্ত বা হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশু বা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

বিকেলে ফিল্ড হাসপাতাল অঙ্গনে কয়েকজন শ্রমিক আশপাশের মাটি সমান করছিলেন। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে কংক্রিটের ছোট র‌্যাম্প (ঢালু পথ) তৈরির কাজ চলছিল। ঢালাই শেষে সেটি কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এ ছাড়া বৃষ্টির পানি জমে যাতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ শেষে চারপাশের মাটি সমান করা হয়েছে। বিদ্যুৎসংযোগের কাজও শেষ হয়েছে। তাঁবুর সামনে লাগানো ছিল একটি ব্যানার, সেটিতে লেখা ছিল- ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল। পরিচালনায়: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।’ ব্যানারটির পাশে একটি তাঁবুর সামনে লাল রঙের কার্পেট বিছানো ছিল। এর সামনে সাজিয়ে রাখা ছিল বেশ কয়েকটি পাতাবাহার গাছের টব। 

গতকাল সেখানে কর্তব্যরত এক আনসার সদস্য ইসমাইল খবরের কাগজকে জানান, ফিল্ড হাসপাতালটি সম্পূর্ণ নির্মাণ করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এখন আশপাশের সর্বশেষ কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে, তবে এটি কবে চালু হবে তা জানি না। 

ঢামেক হাসপাতালসংশ্লিষ্টরা জানান, ফিল্ড হাসপাতালটিতে ২০টি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ৯টি ‘এসি’র ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালে বর্তমানে যে শিশু ওয়ার্ড রয়েছে, সেখানে কোনো হামের রোগী রাখা হবে না। হামের জীবাণুতে যাতে অন্য কেউ আক্রান্ত না হয়, সে জন্য এই হাসপাতালটি তৈরি করা হয়েছে। এখানে শুধু হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে। 

এ প্রসঙ্গে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস খবরের কাগজকে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই হাসপাতালটি সেনাবাহিনী নির্মাণ করেছে। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এটি পরিচালনা করবে। এরই মধ্যে গত শনিবার সেখানে গিয়েছিলাম। এখন আরও অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ হলেই খুব দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা হবে। হামের প্রকোপ কেটে গেলে ফিল্ড হাসপাতালটি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।

অন্যদিকে গতকাল ঢামেক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ২০৭ ও ২০৮ নম্বরের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, দুটি ওয়ার্ডে অসংখ্য শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বিভিন্ন ধরনের জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। 

২০৮ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী ভর্তি নেই। কারও হামের উপসর্গ পাওয়া গেলে তাকে হাসপাতালের নতুন ভবনে অথবা কেবিন ব্লকের এয়ার বোন এরিয়াতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাতে হামের জীবাণু না ছড়ায়। 

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ঢাকা মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজন ভর্তি রয়েছে। তবে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হামের উপসর্গ ধরা পড়লে স্বজনরা এখান থেকে রোগী নিয়ে যান, তারা থাকতে চান না।

[Disclaimer: You may visit the news source- www.khaborerkagoj.com]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর