Beta Ver. 0.04
Wednesday, July 29, 2026
Homeআন্তর্জাতিকব্রাজিলের বিদায়, চোখ এখন আর্জেন্টিনায়

ব্রাজিলের বিদায়, চোখ এখন আর্জেন্টিনায়

ফুটবল দুনিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করলে একদিকে ব্রাজিল, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের ফুটবল দর্শকের কাছেও একই। ব্রাজিলের বিদায়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের অর্ধেক শেষ। আজ আর্জেন্টিনার পরীক্ষা। বাঁচবে নাকি মরবে কে জানে। আতঙ্ক একেবারেই ঘোরাঘুরি করছে না হলফ করে বলা যায় না। তবে সবার চোখ আর্জেন্টিনার ওপর। মেসির আর্জেন্টিনা সালাহর মিশরকে হারিয়ে বিশ্বকাপের আলো ধরে রাখতে পারবে কিনা, সেটাই এখন দেখার।

গতকাল রাতে শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে (২-১) কাঁদছে ব্রাজিল। কাঁদছে ব্রাজিলের কোটি কোটি সমর্থক। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে হালান্ডেরে নরওয়ে ভাইকিং রো উদ্যাপন করছে। হালান্ড ড্রামে আঘাত করছেন। আর মাঠে ঘাসে বসা দলের ফুটবলারদের সঙ্গে গোলপোস্টের পেছনে থাকা নরওয়ের হাজার হাজার দর্শক একসঙ্গে শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে রো রো বলে আওয়াজ তুলছেন। অন্যদিকে মাঠে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের কান্না, নেইমার কাঁদছেন। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্যরা। কোচ আনচেলত্তিও মাঠে নেমে নেইমারদেরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। গ্যালারিতে হলুদ রঙের সমর্থকরাও কাঁদছিলেন। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে সিনিয়র সিটিজেনকেও কাঁদতে দেখা গেছে। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন কেউ। খেলাটা শেষ হওয়ার পরও অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল ব্রাজিলের বিদায়।

পাঁচ বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ইউরোপের নরওয়ের কাছে এভাবে বিদায় কল্পনাও করা যায় না। এক হালান্ডই জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে ডুবিয়ে দিয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বকাপ জিতে এসেছিল ব্রাজিল। দুঙ্গা, বেবেতো, রোমারিও, কাফু, রোনাল্ডোরা দেখলেন তাদের ইতিহাস করা ব্রাজিল কতটা অসহায়। পরবর্তী প্রজন্মের নেইমার, ভিনিসিয়ুস, মার্কোনিয়ও, ডানিলো, ক্যাসিমিরো, ডগলাস, কুনহারা ষষ্ঠ ট্রফি দিতে পারেননি। টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ইউরোপের দলের কাছে হেরে বিদায় নিল ব্রাজিল। ২০০২ সালে জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর  ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্স, ২০১০ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস, ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানি, ২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়াম, ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া এবং এবার ২০২৬ সালে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায়। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতি বারই ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ ছিল আলাদা। এবার নরওয়ের কাছে হেরে বিদায়। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল পাঁচ বার খেলে এক বারও জিততে পারেনি। সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার গত পাঁচ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল। এবার নরওয়ের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। ৩৬ বছর পর শেষ ষোলোয় উঠতে পারেনি ব্রাজিল। ৯০ ইতালি বিশ্বকাপে এভাবেই ব্রাজিলের বিদায় হয়েছিল।

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ব্রাজিল বার বার কোচ বদল করেছে। ২০০২ সালের পর বর্তমান কোচ আনচেলত্তিসহ এক ডজন কোচ ব্রাজিল দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কেউ একটা ছয় নম্বর ট্রফিটা এনে দিতে পারেননি। বার বার স্বপ্ন ভেঙেছে। কোচ আনচেলত্তি মেনে নিয়েছেন ব্রাজিল দলের নতুন ফুটবলার দরকার।

ব্রাজিল এখন ঘরের পথে। নতুন স্বপ্ন আর্জেন্টিনাকে নিয়ে। আজ রাতে আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে। ব্রাজিলের বিদায় দেখেছেন মেসিরা। মিশরকে নিয়ে খুব ভালোভাবেই কৌশল ডিজাইন করেছেন মেসিদের কোচ লিওনেল স্কালনি।

৩২-এর নকআউটের ম্যাচে কেপ-ভার্দের বিপক্ষে জিততে গিয়ে ঘাম ছুটে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার। ২-২ ম্যাচটায় আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টিনা জিতেছে। এটাকে অনেকেই ক্রেডিট দিতে রাজি না। আত্মঘাতী গোলে আর্জেন্টাির বাহাদুরি কোথায়। কেপ-ভার্দের ম্যাচে এক মেসি ছাড়া আর বাকি সবাই হতাশ করেছে। কঠিন ম্যাচে পড়লে কী হয় কে জানে। কেপ-ভার্দের কোনো তারকা নেই। এবার প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এসে কেপ-ভার্দের সবাই তারকায় পরিণত হয়েছিলেন। মিশরের বেলায় সেটি হবে না।

মিশর এই ‍নিয়ে দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় খেলছে। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে ১৬ দেশই খেলেছিল। তাতে ছিল মিশর। কোনো গ্রুপ পর্যায়ের খেলা তখন ছিল না। সেই অর্থে ৯২ বছর পরে যোগ্যতা অর্জন করে মিশর প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে। মিশরের কোচ হোসেম হাসান বলেছেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষ নিয়ে যতটা না ভাবি, তার থেকে অনেক বেশি ভাবি, নিজেদের খেলা নিয়ে। আর্জেন্টিনা যেমন ভালো ছন্দে আছে, আমরাও আছি। ওদের মেসি থাকলে আমাদের আছে সালাহ।’

[Disclaimer: You may visit the news source- www.ittefaq.com.bd]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর