Beta Ver. 0.04
Wednesday, June 24, 2026
Homeবাণিজ্য-অর্থনীতিসভা-সেমিনার ফি, সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতার ওপর বাড়ছে কর

সভা-সেমিনার ফি, সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতার ওপর বাড়ছে কর

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সভা-সেমিনার ফি, সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতার ওপর উৎসে করের হার দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, গবেষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী এসব খাতে আগের তুলনায় কম অর্থ হাতে পাবেন।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণের বিপরীতে প্রাপ্ত ফি, বিভিন্ন ধরনের সম্মানী এবং প্রশিক্ষণ ভাতার ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধের সময় নির্ধারিত কর কেটে রেখে বাকি অর্থ পরিশোধ করবে।

নতুন বিধান কার্যকর হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, গবেষক এবং বিভিন্ন পেশাজীবীরা সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য পেশাগত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য পাওয়া সম্মানী ও ভাতার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি কর পরিশোধ করবেন।

এ ছাড়া কারিগরি সহায়তা বা বিশেষজ্ঞ সেবা দিয়ে কোনো ব্যক্তি ফি গ্রহণ করলে সেই আয়ের ওপরও উৎসে করের হার বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ১০ শতাংশ হারে কর কাটা হলেও আগামী অর্থবছর থেকে তা ১৫ শতাংশ হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধের সময় এই কর কেটে রাখবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণত প্রশিক্ষণ ভাতা, সম্মানী এবং সভা-সেমিনারের ফি বেশি পেয়ে থাকেন। গত বছর এসব ভাতা ও সম্মানীর হারও বাড়ানো হয়েছিল। সরকারি বিধান অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রতি ঘণ্টা ক্লাস নেওয়ার জন্য ৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং উপসচিব ও তার নিচের পর্যায়ের কর্মকর্তারা ৩ হাজার টাকা ভাতা পান।

অন্যদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে গ্রেড-৯ বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-১০ বা তার নিচের পর্যায়ের চাকরিজীবীরা প্রতিদিন ১ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা পেয়ে থাকেন। কোর্স পরিচালকের দৈনিক সম্মানী ২ হাজার টাকা, কোর্স সমন্বয়কের ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সাপোর্ট স্টাফদের ১ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সভায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাধারণত দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিভিন্ন খাতে করের হার বৃদ্ধি করেছে, যার আওতায় সভা-সেমিনার ফি, সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভাতাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটের ওপর সংসদে আলোচনা চলমান রয়েছে। সংসদে কোনো পরিবর্তন না এলে কর-সংক্রান্ত এসব প্রস্তাব আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

[Disclaimer: You may visit the news source- www.ittefaq.com.bd]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর