Beta Ver. 0.04
Wednesday, June 17, 2026
Homeপ্রধান শিরোনামঐতিহাসিক ছয় দফা থেকেই মুক্তিযুদ্ধ

ঐতিহাসিক ছয় দফা থেকেই মুক্তিযুদ্ধ

ছয় দফা যে দাবি বদলে দিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির গতিপথ। রোববার (৭ জুন) সেই ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এই দিনে ছয় দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীসহ আরো অনেকে। তবে সে লড়াই গতি পায় ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে।  

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে স্বৈরাচার আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নবাবজাদা নসরুল্লাহ খানের নেতৃত্বে লাহোরে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে এক জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দিন সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬ দফা উত্থাপন করেন। 

পরদিন যাতে এটি স্থান পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এই দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব দেয়নি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। 

প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬ দফা উত্থাপন করেন। বঙ্গবন্ধু ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ফিরে ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করেন এবং বাংলার আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জনগণের সামনে ৬ দফার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ৬ দফা হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির সনদ। পরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬ দফা এবং এ বিষয়ে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন।

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং সত্তর এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল এই ছয় দফা। স্বৈরশাসক আইয়ুব খান এই আন্দোলন দমাতে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দিলেও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনের চাপে তা ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ তার এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ছয় দফাকে স্তব্ধ করতে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী নানা চক্রান্ত করলেও বাংলার মানুষ তা রুখে দিয়েছিল। ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও এই দিনটি আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেম ও অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে জাগ্রত রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।

[Disclaimer: You may visit the news source- www.ittefaq.com.bd]

অনুরূপ সংবাদ
- Advertisment -

আরও খবর