নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এম আর ইসলাম স্বাধীন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সোমবার (১৮ মে) জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এম আর ইসলাম স্বাধীন বগুড়া শহরের মালতীনগর এলাকার বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামে। তিনি মো. আজমল হোসেন ও রওশন আরা বেগমের বড় ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯১ সালে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ ছাড়া বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন ১৯৮৩ সালে।
স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ২৫(ক) অনুযায়ী তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
১৮৭৬ সালে বগুড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৮১ সালে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা লাভ করে। ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে যাত্রা শুরু করা পৌরসভাটি বর্তমানে ২১টি ওয়ার্ডের বিস্তৃত নগর প্রশাসনে রূপ নিচ্ছে। প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো এই পৌরসভা সম্প্রতি সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়েছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী বর্তমান পৌর এলাকাসহ বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে নতুন সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বর্ধিত এলাকা যুক্ত করে আরও ওয়ার্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ১৪ মে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে বলা হয়, বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও মৌজা নতুন সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সীমানা নির্ধারণে উত্তরে নিশিন্দারা ও রাজাপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকা, দক্ষিণে আশেকপুর, মাদলা ও মাঝিড়া ইউনিয়নের অংশ, পূর্বে সাবগ্রাম, রাজাপুর ও মাদলা ইউনিয়নের অংশ এবং পশ্চিমে ফাঁপোড় ও এরুলিয়া ইউনিয়নের কিছু এলাকা যুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফুলবাড়ী, কাটনারপাড়া, সূত্রাপুর, চকবৃন্দাবন, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, গাড়ামাড়া, মালতীনগর, লতিফপুর, ফুলদিঘী ও বেতগাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় এসেছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া এখন দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন। পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ায় নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় আকারের রাস্তা, ওভারপাস, ব্রিজ ও নগর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামীকাল বুধবার বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। আইনের বিধান অনুযায়ী একটি সিটি করপোরেশন নিজস্ব ক্ষমতায় নাগরিক সুবিধার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারবে।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শহরটিকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা। নতুন প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। নাগরিকদের প্রত্যাশা, এখন থেকে পানি সরবরাহ, সড়ক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে।
[Disclaimer: You may visit the news source-www.khaborerkagoj.com]

