সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন পে স্কেল কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, আগামী জাতীয় বাজেটেই নতুন পে স্কেলের জন্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তবে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রথম ধাপে সম্ভাব্য ৩৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হতে পারে। এ ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ বাড়ানো হবে। পরবর্তী দুই অর্থবছরে বাকি সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী ধাপে বাকি সুবিধা কার্যকর হবে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়, যারা কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে।
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।
এছাড়া পেনশন সুবিধাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পেলে তা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পেনশনে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীদের ৫ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বেতন কমিশনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
[Disclaimer: You may visit the news source- www.ittefaq.com.bd]

