রিফাতের বয়স তখন মাত্র ২২। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে পড়ছে। স্বপ্ন ছিল— ভালো একটা চাকরি করবে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে। কিন্তু বাস্তবতা এসে ধাক্কা দিল অন্যভাবে। প্রথম চাকরির ইন্টারভিউতেই বাদ পড়ল সে। এর পর একের পর এক জায়গায় আবেদন করেও কোথাও সুযোগ পেল না। এক সময় নিজের ওপর বিশ্বাসই নড়ে গেল। মনে হতে লাগল, ‘আমি কি সত্যিই কিছুই পারি না?’
এই অনুভূতিটা নতুন নয়। আমাদের চারপাশের প্রায় সব তরুণই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়। পরীক্ষায় খারাপ ফল, চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় লোকসান, কিংবা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া— ব্যর্থতার রূপ অনেক। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, এই ব্যর্থতার পর আমরা কী করি।
রিফাত প্রথমে নিজের কষ্ট কাউকে বলতে চাইত না। মনে করত, সবাই তাকে ব্যর্থ ভাববে। কিন্তু একদিন সাহস করে এক বন্ধুর সঙ্গে মন খুলে কথা বলল। বন্ধু শুধু একটা কথাই বলল, ‘তুই চেষ্টা করেছিস, এটুকুই তো প্রমাণ করে তুই হাল ছাড়িসনি।’ এই কথাটা রিফাতকে ভাবতে বাধ্য করল। সে বুঝতে পারল, ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়; বরং এটা শেখার একটা ধাপ।
পরের দিন থেকেই সে নিজের ভুলগুলো খুঁজতে শুরু করল। কেন ইন্টারভিউতে বাদ পড়েছে? কোথায় দুর্বলতা? সে বুঝল, নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। অনলাইনে ফ্রি কোর্স খুঁজে পড়াশোনা শুরু করল। প্রতিদিন একটু একটু করে শেখা, নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা— এই ছোট ছোট কাজই তাকে সামনে এগিয়ে নিল।
ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম ধাপ হলো ব্যর্থতাকে স্বীকার করা। অস্বীকার করলে কষ্ট কমে না, বরং বাড়ে। নিজের মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক— এটা মেনে নিতে হবে। কিন্তু সেই মন খারাপেই আটকে থাকলে চলবে না।
দ্বিতীয় ধাপ হলো শেখা। প্রতিটি ব্যর্থতার পেছনে একটা শিক্ষা লুকিয়ে থাকে। কোথায় ভুল হয়েছে, কী করলে ভালো হতো— এই প্রশ্নগুলো নিজেকে করলে উত্তর পাওয়া যায়। এই উত্তরই ভবিষ্যতের পথ দেখায়।
তৃতীয় ধাপ হলো ধৈর্য। রাতারাতি সফলতা আসে না। অনেক সময় বারবার পড়ে গিয়ে উঠতে হয়। এই সময় নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের গতিতে এগোনো জরুরি।
রিফাতের গল্প এখানেই শেষ নয়। কয়েক মাস পর সে আবার ইন্টারভিউ দিল— এবার প্রস্তুতি ছিল ভিন্ন, মনোবল ছিল শক্ত। সে চাকরিটা পেল। কিন্তু তার চেয়েও বড় অর্জন হলো, সে শিখে গেল ব্যর্থতা তাকে থামাতে পারে না।
তরুণদের জন্য একটাই কথা— ব্যর্থতা আপনাকে সংজ্ঞায়িত করে না, বরং আপনি ব্যর্থতার সঙ্গে কী করেন, সেটাই আপনার পরিচয় গড়ে দেয়। আজ আপনি পড়ে গেলে কাল আবার দাঁড়াতে পারবেন— এই বিশ্বাসটাই আপনাকে এগিয়ে নেবে।
[Disclaimer: You may visit the news source-www.khaborerkagoj.com]

