তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি এখন ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। এ অবস্থায় এ পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।
বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য এই শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে গতকাল লেখা এক চিঠিতে এ সুপারিশ করা হয়।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজ আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে এনবিআর। চলতি মাস পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল থাকবে। এখন পণ্যটির আমদানি শুল্কও প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হলো।
রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে গতকাল দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। অনেক পাড়ামহল্লায় আরো ১০ টাকা বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ট্যারিফ কমিশন বলেছে, দেশী পেঁয়াজ সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আমদানি করা পেঁয়াজের বাড়তি দামের কারণে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। কৃষকের ঘরে পেঁয়াজের মজুদ এখন শেষের দিকে। অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষাবাদ ব্যাহত হয়েছে।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে দেশী পেঁয়াজের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আর এক বছর আগের তুলনায় দেশী পেঁয়াজের দাম এখন ৩৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, দেশে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। গত এক মাসে এ দাম প্রায় ৮ শতাংশ ও এক বছরে তা ১৭ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম ১১৬ শতাংশ বেড়েছে।
ট্যারিফ কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে এ চাহিদার ৭৫-৮০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়; বাকিটা পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। পেঁয়াজ আমদানির অন্যতম উৎস হচ্ছে ভারত। উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতিবেশী এ দেশ পেঁয়াজ রফতানি নিরুৎসাহিত করেছিল। সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজ রফতানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলেও এখনো ২০ শতাংশ রফতানি শুল্ক বহাল রেখেছে। ফলে বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানির কারণে দেশেও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।
অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ অস্থিরতার পর স্বস্তি ফিরেছে ডিমের বাজারে। তবে মুরগি ও সবজির দামে এখনো নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। বাজার তদারকি আরো জোরদার হলে নিত্যপণ্য হাতের নাগালে চলে আসবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
প্রতি কেজি পুরনো আলু গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০ ও নতুন আলু ৭০ টাকায়। প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০ টাকা, ভারতীয় রসুন ২৩০, ভারতীয় আদা ২৮০, প্রতি পিস ফুলকপি ৫০ ও প্রতি পিস বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁকরোল ৭০ টাকা, পেঁপে ৫০, পটোল ৮০, শশা ৮০, ঢেঁড়শ ৮০, লম্বা বেগুন ৮০, মুখিকচু ৮০, করলা ৮০, ঝিঙা ৮০, চিচিঙ্গা ৭০, ধুন্দল ৬০, বিট ১২০, টমেটো ১৪০,গাজর ১৪০, ক্যাপসিকাম সবুজ ২২০, ক্যাপসিকাম লাল ও হলুদ ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্যাসহ বিভিন্ন কারণে বাজারে সবজির সংকট রয়েছে। এখনো সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। দু-একটা সবজি ছাড়া বাকি সব সবজির দরই বাড়তির দিকে।’
বাজারে প্রতি কেজি সাদা মুরগি গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজি। সোনালি ও লেয়ার মুরগি ২৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে গরু-খাসির মাংস আগের দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল এক কেজি গরুর মাংস ৭৩০ ও খাসির মাংস ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. আলম বলেন, ‘মুরগির দাম এখনো বাড়তির দিকে। সরকার সঠিকভাবে বাজার তদারক করলে সব জিনিসের দাম কমে আসবে।’
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি সাইজের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি। ছোট চিংড়ি ৬৫০ ও গলদা চিংড়ি ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
দেশী শিং ১ হাজার ১০০ টাকা, বিলের টেংরা ৭০০, নদীর বড় বাইলা ১ হাজার ২০০, বড় সরপুঁটি ৫০০, ছোট সরপুঁটি ২৫০, দেশী পুঁটি ৪০০, বাটা ২৮০, নদীর টোনা ২৫০, পাঙাশ ২২০, লইট্টা ৩০০, পোয়া ৪৫০, কার্প ২৫০, রুই ২৭০, কই ২২০, তেলাপিয়া ২৫০, মলন্দি ৪০০, বোয়াল ৪৫০, বিগহেড কার্প ২৮০, বাইম ৩৬০ ও তারা বাইম ৬৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
[ Disclaimer: You may visit the news source:- https://bonikbarta.com/]

